ফরিদপুরে মক্তবে শিশুকে যৌন নিপীড়ন, সাত বছরের কারাদণ্ড ইমামের
ফরিদপুরের নগরকান্দায় এক শিশুকে যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণচেষ্টার মামলায় আরিফুল ইসলাম (২৪) নামে এক খণ্ডকালীন ইমাম ও মক্তব শিক্ষককে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে আরও এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
রোববার (৮ নভেম্বর) ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশি পাহারায় তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, আরিফুল ইসলাম ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের দয়ারামপুর এলাকার একটি মসজিদে খণ্ডকালীন ইমাম ও মক্তব শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। নামাজ পড়ানোর পাশাপাশি সকালে শিশুদের আরবি শিক্ষা দিতেন তিনি।
‘মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, আরিফুল ইসলাম ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের দয়ারামপুর এলাকার একটি মসজিদে খণ্ডকালীন ইমাম ও মক্তব শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।’
— জি বাংলা ডেস্ক
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ অক্টোবর সকালে মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে আরবি পড়তে একাই মক্তবে যায় শিশুটি। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সেদিন অন্য কোনো শিশু মক্তবে উপস্থিত ছিল না।
আরও পড়ুন
শ্রমিক আন্দোলনে পোশাকশিল্পে উৎপাদন ব্যাহত, ক্রয়াদেশ কমার আশঙ্কা
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, এ সুযোগে আরিফুল ইসলাম শিশুটিকে নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে অনৈতিক প্রস্তাব দেন। শিশুটি রাজি না হলে তাঁকে ভয়ভীতি দেখিয়ে যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের চেষ্টা করেন তিনি। একপর্যায়ে পানি পান করার কথা বলে কক্ষ থেকে বেরিয়ে বাড়িতে ফিরে যায় শিশুটি। পরে পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনাটি জানায়।
মূল বিষয়গুলি
- ফরিদপুরের নগরকান্দায় এক শিশুকে যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণচেষ্টার মামলায় আরিফুল ইসলাম (২৪) নামে এক খণ্ডকালীন ইমাম ও মক্তব শিক্ষককে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত…
- রোববার (৮ নভেম্বর) ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।
- মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, আরিফুল ইসলাম ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের দয়ারামপুর এলাকার একটি মসজিদে খণ্ডকালীন ইমাম ও মক্তব শিক্ষক …
- এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ অক্টোবর সকালে মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে আরবি পড়তে একাই মক্তবে যায় শিশুটি।
এরপর পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আরিফুল ইসলামকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। ওই দিনই শিশুটির মা বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় মামলা করেন।
মামলাটি তদন্ত করেন নগরকান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম। তদন্ত শেষে আরিফুল ইসলামকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তিনি।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন। তিনি জানান, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্যগ্রহণ, সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা ও উভয় পক্ষের শুনানি শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এ দণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ে সন্তুষ্ট। এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ভবিষ্যতে সমাজে শিশুদের প্রতি যৌন নিপীড়নের মতো অপরাধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশা করি।’






মন্তব্য (৩)
ভারতের প্রত্যাশাই যথাযত, কিন্তু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব আমাদের নিজেদেরই।
দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ করতে সরকার, প্রশাসন ও সবাইকে একসাথে কাজ করা উচিত। প্রত্যেকের নিরাপত্তা রক্ষা করা রাষ্ট্রের প্রধান কাজ।
সংবাদ সম্মেলনের প্রতিটি বক্তব্য তালকাঠিতে নেওয়া দরকার। ন্যায্য প্রতিবেদনই রাষ্ট্রের চিত্র সবার কাছে উজ্জ্বল করে।