রয়টার্সের প্রতিবেদন/শ্রমিক অসন্তোষে ৫২৯ পোশাক কারখানা বন্ধ, মজুরি বোর্ড গঠন
পোশাকশ্রমিকদের বেতন পর্যালোচনার জন্য মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার। একই সঙ্গে শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে বেতন বাড়ানোর দাবিতে চলমান বিক্ষোভে রোববারও অচল হয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিক্ষোভকারীদের ওপর কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করেছে পুলিশ।
এ বিরোধের কারণে দেশের প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থান, রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি জোগান দেওয়া পোশাকশিল্প এবং পশ্চিমা বিশ্বের বড় বড় ব্র্যান্ডে পোশাক সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দেশের পোশাকশ্রমিকেরা মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানাচ্ছেন। বর্তমানে তাঁদের ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। শ্রমিকদের দাবি, খাদ্য, বাসস্থান, যাতায়াত ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তাঁদের ক্রয়ক্ষমতা অনেক কমে গেছে।
‘এর পক্ষে কোনো যৌক্তিক বা গাণিতিক ভিত্তি নেই।’ তিনি বলেন, এত বড় অঙ্কের মজুরি বৃদ্ধি হলে সীমিত মুনাফায় ব্যবসা পরিচালনা এবং পোশাক উৎপাদনকারী প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা নির্মাতাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।’
— জি বাংলা ডেস্ক
শ্রমিক মাহিন হোসেন বলেন, ‘জীবনযাত্রার ব্যয় আমাদের আয়ের তুলনায় অনেক বেশি বেড়েছে। বাড়িভাড়া দেওয়ার পর খাবার, সন্তানদের পড়াশোনা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচের জন্য খুব সামান্য অর্থ থাকে। অনেকের পক্ষেই এখন পরিবার চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।’
আরও পড়ুন
নির্মল বায়ু ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিজ্ঞানভিত্তিক নীতির ওপর গুরুত্ব পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর
মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা সত্ত্বেও রোববার হাজারো পোশাকশ্রমিক বিক্ষোভ করেছেন। রাজধানী ঢাকা ও এর বাইরে গাজীপুরে সড়ক অবরোধ করেন তাঁরা। এতে গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলগুলোতে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
মূল বিষয়গুলি
- পোশাকশ্রমিকদের বেতন পর্যালোচনার জন্য মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার।
- এ বিরোধের কারণে দেশের প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থান, রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি জোগান দেওয়া পোশাকশিল্প এবং পশ্চিমা বিশ্বের বড় বড় ব্র্যান্ডে পোশাক সরবরাহ ব…
- দেশের পোশাকশ্রমিকেরা মাসিক ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানাচ্ছেন।
- শ্রমিক মাহিন হোসেন বলেন, ‘জীবনযাত্রার ব্যয় আমাদের আয়ের তুলনায় অনেক বেশি বেড়েছে।
বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়লে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। পৃথক ঘটনায় পুলিশের একটি গাড়ি ও একটি পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
সর্বশেষ এ অসন্তোষের আগে ঢাকার উপকণ্ঠে পোশাকশিল্পের বড় কেন্দ্র আশুলিয়ায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ হয়। সেখানে বেতন বাড়ানোর দাবিতে শনিবার শ্রমিকেরা আন্দোলনে নামলে কয়েক ডজন কারখানার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) তথ্য অনুযায়ী, চলমান অসন্তোষে দেশের প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোতে মোট ৫২৯টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন ৯ লাখ ৮৭ হাজার ১৯০ জন শ্রমিক।
শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, শ্রমিক প্রতিনিধি ও শিল্পমালিকদের সঙ্গে আলোচনার পর মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তিনি শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার প্রস্তাবিত এ উদ্যোগের মাধ্যমে শ্রমিক অসন্তোষের মূল কারণগুলো মোকাবিলা করা হচ্ছে না।
ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ডে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের দুজন করে প্রতিনিধি রয়েছেন। এ ছাড়া রয়েছেন একজন সরকারি প্রতিনিধি ও একজন নিরপেক্ষ সদস্য। পোশাক খাতের মজুরি পর্যালোচনা করে নতুন বেতনকাঠামোর সুপারিশ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বোর্ডটিকে।
শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সতর্ক করে বলেন, দীর্ঘদিন উৎপাদন ও পরিবহন কার্যক্রম ব্যাহত হলে রপ্তানি চালান পাঠাতে দেরি হতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছ থেকে অর্থ পেতেও বিলম্ব হতে পারে। এতে পোশাক প্রস্তুতকারক ও শ্রমিক—উভয় পক্ষই আরও সমস্যায় পড়বেন।
চীনের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ বাংলাদেশ। দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১০ শতাংশ আসে এ খাত থেকে। অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি এই শিল্প।
তবে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, গ্যাস ও বিদ্যুতের নিয়মিত সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তাসহ নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে এ খাত।
শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবির বিষয়ে বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি সেলিম রহমান বলেন, ‘এ দাবি বাস্তবসম্মত নয়। এর পক্ষে কোনো যৌক্তিক বা গাণিতিক ভিত্তি নেই।’
তিনি বলেন, এত বড় অঙ্কের মজুরি বৃদ্ধি হলে সীমিত মুনাফায় ব্যবসা পরিচালনা এবং পোশাক উৎপাদনকারী প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা নির্মাতাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।






মন্তব্য (৩)
ভারতের প্রত্যাশাই যথাযত, কিন্তু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব আমাদের নিজেদেরই।
দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ করতে সরকার, প্রশাসন ও সবাইকে একসাথে কাজ করা উচিত। প্রত্যেকের নিরাপত্তা রক্ষা করা রাষ্ট্রের প্রধান কাজ।
সংবাদ সম্মেলনের প্রতিটি বক্তব্য তালকাঠিতে নেওয়া দরকার। ন্যায্য প্রতিবেদনই রাষ্ট্রের চিত্র সবার কাছে উজ্জ্বল করে।