মিরপুরে সংঘর্ষের মধ্যে সড়কে আটকে শিশুরা, চোখেমুখে আতঙ্ক
রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের টানা চতুর্থ দিনের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সংঘর্ষ ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। এতে বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনও।
সংঘর্ষ ও যান চলাচল বন্ধ থাকায় স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে সড়কে আটকে পড়ে অসংখ্য শিক্ষার্থী। যানবাহনের জানালা দিয়ে সংঘর্ষের পরিস্থিতি দেখছিল শিশুরা। চারদিকে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেলের শব্দ, পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ এবং মানুষের ছোটাছুটিতে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে তারা। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি চরম ভোগান্তিতে পড়েন অভিভাবকেরাও।
সরেজমিনে দেখা যায়, মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে মূল সড়কে যানবাহনে আটকে আছে স্কুল ইউনিফর্ম পরা অসংখ্য শিশু। গাড়ির জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকা শিশুদের চোখেমুখে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা। কিছুক্ষণ পরপর সাউন্ড গ্রেনেডের বিকট শব্দ, মানুষের ছোটাছুটি, চিৎকার ও ধোঁয়ায় ভীত হয়ে পড়ে তারা। কেউ কান্না করছিল, কেউ আবার অভিভাবকদের জড়িয়ে ধরেছিল। সন্তানদের নিরাপদে আগলে রাখার চেষ্টা করছিলেন অভিভাবকেরা। কিন্তু সংঘর্ষ ও যান চলাচল বন্ধ থাকায় বাড়ি ফেরার পথ খুঁজে পাচ্ছিলেন না তাঁরা।
‘আন্দোলনের আড়ালে কারা ইন্ধন জোগাচ্ছে এবং কী উদ্দেশ্যে নাশকতা সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষ ও শিশুদের জিম্মি করা হচ্ছে, তা তদন্ত করে পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
— জি বাংলা ডেস্ক
মিরপুরের বিভিন্ন সড়কে স্কুলবাস, ভ্যান ও রিকশায় আটকে থাকতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের। দীর্ঘ সময় যানবাহনে আটকে থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন কর্মজীবী মানুষ, রোগীসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে বের হওয়া সাধারণ যাত্রীরা।
আরও পড়ুন
বন্ধ গার্মেন্টস কারখানা শিগগিরই খুলে দেওয়া হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে গত শনিবার থেকে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন চলছে। এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালেও বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা লাঠিসোঁটা নিয়ে সড়কে নামেন। সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন তাঁরা। এ সময় পুলিশ বাধা দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন আন্দোলনকারীরা। পরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
মূল বিষয়গুলি
- রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের টানা চতুর্থ দিনের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সংঘর্ষ ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে।
- সংঘর্ষ ও যান চলাচল বন্ধ থাকায় স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে সড়কে আটকে পড়ে অসংখ্য শিক্ষার্থী।
- সরেজমিনে দেখা যায়, মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে মূল সড়কে যানবাহনে আটকে আছে স্কুল ইউনিফর্ম পরা অসংখ্য শিশু।
- মিরপুরের বিভিন্ন সড়কে স্কুলবাস, ভ্যান ও রিকশায় আটকে থাকতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের।
পরিস্থিতির অবনতিতে যাত্রী ও স্টেশনের নিরাপত্তার স্বার্থে সকালে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশন।
এমআরটি পুলিশের কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ওই স্টেশনে ট্রেন থামা এবং যাত্রী ওঠানামা বন্ধ থাকবে।
এদিকে দুপুরের দিকে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসার পর গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের পিওএম বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) তৌহিদুল আরিফ। তিনি বলেন, আন্দোলনের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে।
তৌহিদুল আরিফ বলেন, মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় কিছু দুষ্কৃতকারী সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে সমস্যা তৈরির চেষ্টা করেছিল। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং আরও কঠোর হচ্ছে। তাঁর দাবি, তখন সড়কে থাকা ব্যক্তিদের কেউই প্রকৃত পোশাকশ্রমিক ছিলেন না; তাঁরা অন্য উদ্দেশ্যে সেখানে এসেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, প্রকৃত পোশাকশ্রমিকেরা ছুটি বা কাজ শেষে বাড়ি চলে গেছেন অথবা কারখানায় কাজ করছেন। আন্দোলনের আড়ালে কারা ইন্ধন জোগাচ্ছে এবং কী উদ্দেশ্যে নাশকতা সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষ ও শিশুদের জিম্মি করা হচ্ছে, তা তদন্ত করে পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






মন্তব্য (৩)
ভারতের প্রত্যাশাই যথাযত, কিন্তু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব আমাদের নিজেদেরই।
দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ করতে সরকার, প্রশাসন ও সবাইকে একসাথে কাজ করা উচিত। প্রত্যেকের নিরাপত্তা রক্ষা করা রাষ্ট্রের প্রধান কাজ।
সংবাদ সম্মেলনের প্রতিটি বক্তব্য তালকাঠিতে নেওয়া দরকার। ন্যায্য প্রতিবেদনই রাষ্ট্রের চিত্র সবার কাছে উজ্জ্বল করে।