গাজায় ভারী বর্ষণ/তলিয়ে গেছে ৭০ হাজার তাঁবু, ফের আশ্রয়হীন বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর
ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসে ফিলিস্তিনের গাজায় প্রায় ৭০ হাজার তাঁবু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে বাস্তুচ্যুত বহু পরিবার। ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো ও উদ্ধার সরঞ্জামের সংকটে জরুরি তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
শুক্রবার গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া ঝড়-বৃষ্টিতে কয়েক ডজন দেয়ালও ধসে পড়েছে বলে জানিয়েছে গাজার সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয়। প্রাথমিক হিসাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩০ লাখ ডলার বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
গাজার চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, ইসরায়েলের আগের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত দুটি ভবনের দেয়াল ধসে এবং ঝড়ের সময় পাঁচ ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন।
‘অক্টোবরে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয়বিষয়ক দপ্তর সতর্ক করে জানায়, গাজার ৯ লাখ ৫০ হাজার ফিলিস্তিনি এমন বাস্তুচ্যুত শিবিরে বসবাস করছেন, যেগুলো মাঝারি থেকে উচ্চমাত্রার বন্যাঝুঁকিতে রয়েছে।’
— আন্তর্জাতিক ডেস্ক
গাজা সিটি পৌরসভার মুখপাত্র হোসনি মুহান্না বলেন, যেসব পরিবারের তাঁবু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের থাকার আর কোনো জায়গা নেই।
আরও পড়ুন
ঘুমিয়েই জিতলেন সাড়ে ৯ লাখ টাকা!
তিনি জানান, গাজা সিটির মোট আয়তনের প্রায় ৩০ শতাংশ এলাকায় প্রায় ১০ লাখ বাসিন্দা ও বাস্তুচ্যুত মানুষ গাদাগাদি করে বসবাস করছেন। ইসরায়েলের যুদ্ধে বিধ্বস্ত অবকাঠামোর ওপর এতে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
মূল বিষয়গুলি
- ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসে ফিলিস্তিনের গাজায় প্রায় ৭০ হাজার তাঁবু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
- শুক্রবার গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া ঝড়-বৃষ্টিতে কয়েক ডজন দেয়ালও ধসে পড়েছে বলে জানিয়েছে গাজার সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয়।
- গাজার চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, ইসরায়েলের আগের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত দুটি ভবনের দেয়াল ধসে এবং ঝড়ের সময় পাঁচ ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন।
- গাজা সিটি পৌরসভার মুখপাত্র হোসনি মুহান্না বলেন, যেসব পরিবারের তাঁবু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের থাকার আর কোনো জায়গা নেই।
মুহান্না বলেন, ১২ ঘণ্টায় গাজা সিটিতে ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা শহরটির বার্ষিক বৃষ্টিপাতের প্রায় ১৫ শতাংশ। প্রবল বাতাসে কিছু তাঁবু উড়ে গেছে, ছিঁড়ে গেছে আরও অনেক তাঁবু। বৃষ্টির পানিতে আশ্রয়শিবিরগুলোও তলিয়ে গেছে।
তাঁর ভাষ্য, জলাবদ্ধ সড়ক, ভূমিক্ষয় ও পানি নিষ্কাশনের নালা বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের কর্মীরা ২৫০টি ফোন পেয়েছেন। সীমিত সামর্থ্য নিয়ে তাঁরা বেশির ভাগ সমস্যার সমাধানে কাজ করেছেন।
মুহান্না সতর্ক করে বলেন, গাজা সিটির ২৭০টি শিবির ও আশ্রয়কেন্দ্র বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে। যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির কারণে শহরের পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার সক্ষমতা কমে ২০ শতাংশে নেমে এসেছে। ফলে নিচু এলাকাগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, গাজার প্রায় ১৯ লাখ ৮০ হাজার মানুষের আশ্রয় ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী প্রয়োজন। জুন মাসে পরিচালিত জরিপের বরাতে সংস্থাটি জানায়, এই সংখ্যা গাজার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯৪ শতাংশ। তাঁদের মধ্যে ৫৮ শতাংশ মানুষের আশ্রয়ের প্রয়োজন অত্যন্ত সংকটাপন্ন বা বিপর্যয়কর পর্যায়ে রয়েছে।
অক্টোবরে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয়বিষয়ক দপ্তর সতর্ক করে জানায়, গাজার ৯ লাখ ৫০ হাজার ফিলিস্তিনি এমন বাস্তুচ্যুত শিবিরে বসবাস করছেন, যেগুলো মাঝারি থেকে উচ্চমাত্রার বন্যাঝুঁকিতে রয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৪ লাখের বেশি মানুষ উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় রয়েছেন।
২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া ইসরায়েলের যুদ্ধে গাজার বাড়িঘর ও অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার এক বছরের বেশি সময় পার হলেও আশ্রয় ও পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা পূরণে সহায়তা এখনো অপর্যাপ্ত। অস্থায়ী আবাসন নির্মাণ ও বাড়িঘর মেরামতের প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রবেশে ইসরায়েলের বিধিনিষেধ অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।






মন্তব্য (৩)
ভারতের প্রত্যাশাই যথাযত, কিন্তু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব আমাদের নিজেদেরই।
দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ করতে সরকার, প্রশাসন ও সবাইকে একসাথে কাজ করা উচিত। প্রত্যেকের নিরাপত্তা রক্ষা করা রাষ্ট্রের প্রধান কাজ।
সংবাদ সম্মেলনের প্রতিটি বক্তব্য তালকাঠিতে নেওয়া দরকার। ন্যায্য প্রতিবেদনই রাষ্ট্রের চিত্র সবার কাছে উজ্জ্বল করে।